
স্টোন ফরেস্ট এবং
ঈশিতা ভাদুড়ী
বিশ্বে কত বিস্ময়কর আশ্চর্যের সৃষ্টি, তাদেরকে ঘিরে কত রূপকথা সেই সব দেখলে শুনলে অবাক হতে হয়। দেশে দেশে ঘুরে সেই সব বিচিত্র কাহিনী সেই সব অতুলনীয় সৃষ্টির মুখোমুখোমুখি হয়েছি আমরা অনেকবার।
চিনের অন্যতম দ্রষ্টব্য 'স্টোন ফরেস্ট', পাথরের জঙ্গল। কুনমিঙ শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্বে ৮৩ কিলোমিটার দূরে স্টোন ফরেস্টে আমরা ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম। আশি হেক্টর জায়গা জুড়ে পাথরের এই জঙ্গল যথার্থই বিচিত্র। চুনাপাথরের (লাইমস্টোন) পাহাড়চূড়া আর শিলাস্তূপ গাছেদের মতো দাঁড়িয়ে, ১৬ থেকে ৯৮ ফুট লম্বা সেই সব স্তম্ভগুলো লেকের জল থেকে ক্ষয়ের কারণেই তৈরী। প্রায় ২৭০ মিলিয়ন বছর আগে একটি অগভীর সমুদ্র ছিল। এই অঞ্চলের উথ্বান ডিপোজিশনের পরে ঘটেছিল। পরে হাওয়া-বাতাস এবং প্রবহমান জলের সংস্পর্শে এই চুনাপাথরের স্তম্ভগুলি আকৃতি পায়। এই গঠনগুলি যতদূর দৃষ্টি যায়, দেখতে একটি বিশাল পাথরের ননের মতো, তাই নাম ‘দ্য স্টোন ফরেস্ট’। ইউনেস্কোর হেরিটেজ সাইট হিসেবে উল্লিখিত এই স্টোন ফরেস্ট।
তিন হাজার নশো সাঁইত্রিশ ফুট লম্বা আঁকাবাঁকা গোলকধাঁধাঁর মতো রাস্তায় আশ্চর্য সব আকারে পাথর। আমাদের গাইড ঐ বাঁকাচোরা সরু খাড়াই এলোমেলো পথে যত বেশী অভ্যস্ত, আমরা তত বেশী অনভ্যস্ত পায়ে গাইডের কথা শুনতে শুনতে স্টোন ফরেস্ট আবিষ্কার করতে থাকলাম। কোথাও কচ্ছপ, কোথাও হাতি, কোথাও মানুষ, কোথাও প্যাগোডার মতো পাথরগুলো কী অদ্ভুত বিস্ময়কর! যথার্থই মায়াময়, মোহময়।
কিংবদন্তী অনুসারে অবশ্য স্টোন ফরেস্টের এই অঞ্চল (শিলিন) হলো চীনের ইয়ি গোষ্ঠীর সুন্দরী কন্যা আশিমার জন্মস্থান। সেই আশিমা যখন প্রেমে পড়ে, তখন বাধার সৃষ্টি হয়, তাকে তার ভালোবাসার মানুষকে বিবাহ করতে দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে তাকে ওই স্টোন ফরেস্টে একটি পাথরে পরিণত করা হয়, যেখানে এখনঅ তার নাম উজ্জ্বল। প্রত্যেক বছর ষষ্ঠ চান্দ্রমাসের ২৪তম দিনে ইয়ি গোষ্ঠির মানুষজন উৎসব করে। লোকনৃত্য, কুস্তী-প্রতিযোগিতা ইত্যাদি বিভিন্নরকম উৎসব হয়।
এরকম অনেক অদ্ভূত অদ্ভূত গল্প সারা চিন জুড়ে ছড়িয়ে আছে। কুনমিঙ খুবই ঝকঝকে তকতকে শহর, নব্বই দশকে সব পুরোনো বাড়িগুলো ধূলিস্মাৎ করে নতুন নতুন উঁচু উঁচু ঝকঝকে সব বাড়িতে নতুন করে কুনমিঙকে সাজানো হয়েছে। দিয়াঞ্চি (Dianchi) লেকের পাশে পাশে গাড়ী চলতে লাগল। শহরের দক্ষিণ-পূর্বে তিনশো তিরিশ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে এই লেক চিনের ষষ্ঠ বৃহত্তম মিষ্টিজলের লেক। চাঁদের ফালির মতো দেখতে এই লেকের পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ চারদিকেই পাহাড়। লেকের ধারে খুবই সুন্দর আবহাওয়া, এখানে নাকি উচ্চবিত্তদের বসবাস। শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে পনেরো কিলোমিটার দূরে এই ওয়েস্টার্ন মাউন্টেন্স, সমুদ্রের ওপর উনিশশো থেকে দু' হাজার তিনশো পঞ্চাশ মিটার উঁচুতে, চারটি শৃঙ্গের এই ওয়েস্টার্ন মাউন্টেন্সকে 'বুদ্ধিষ্ট হিল'ও বলা হয়, বুদ্ধদেবের একটি মুর্তি এখানে শায়িত আছে। কথিত আছে এক দুঃখী রাজকুমারীর অশ্রুজলেই নাকি কুনমিঙ লেক তৈরী হয়, আর তার শরীর ওয়েস্ট হিলে রুপান্তরিত হয়। এরকম কত যে কাহিনী রূপকথার মতন ছড়িয়ে আছে!
ঊ গর্জের বারোটা চূড়ার নাম-ই খুব কাব্যিক। চৈনিক মানুষেরা প্রাকৃতিক বিষয়ের ওপর গল্প বুনতে ভালোবাসে, এই গর্জ এবং পাহাড়গুলো তাদের খুবই পছন্দের বিষয়। সবচেয়ে বিখ্যাত চূড়া হল ‘গডেস পিক’, মনে হয় যেন একটি স্তম্ভের সামনে তরুণী হাঁটু গেড়ে বসে আছে। কথিত আছে, সেই অল্পবয়সী দেবী এক পশ্চিমের রানীর মেয়ে, তিনি এই নির্জন জায়গার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বসবাস শুরু করেছেন। ঊ গর্জের শেষপ্রান্তে badong শহরকে আবার নতুন করে তৈরী করা হচ্ছে, পুরোনো শহরটি জলে ডুবে গেছে, আমরা লঞ্চে করে সেই ডুবে যাওয়া শহরের ওপর দিয়ে যেতে যেতে গাইডের কথা শুনতে থাকলাম। শুনতে শুনতে মন কেঁদে উঠল, জলের নিচে কত প্রাণ কত হাহাকার, আজ ভ্রমণার্থীরা সেখানে নৌবিহারে বিলাস করছে!

আত্মমুক্তি ও শ্রাবণীমেঘ
শাখী পাল
তারপর তুমি বিচ্ছেদের নেশায় চুর। তোমার চোখে পানসি ভাসে, আর আমি সেলাই করি সংসারের ছেঁড়া হাল। ফুটো টিনের চালের এপার থেকে ওপার দেখে কোনোক্রমে সংসার চালাই। চৌকাঠে এক পা পেরোতেই দেখি ফুটো চাল দিয়ে উঁকি মারে আষাঢ় প্রলাপ। তুমি তো শব্দ দ্যোতক। ঠোঁটের ইশারায় ঝরে পড়ে অক্ষর জোনাক। পাতার পর পাতায় জুড়ে চলেছ ছয় ঋতুর সুরালাপ। অথচ রাত এগোলে পুড়ে যাওয়া প্রদীপের গন্ধ মাখি। নেশাতুর তোমায় ঘুমপাড়ানি গান শোনাই কীভাবে! সুরের খেয়া যে মাঝদরিয়ায় ভেসে গেছে!
হঠাৎ আঁচলের খুঁটে দুর্ভিক্ষের ছায়া ঘনায়। হৃষ্টপুষ্ট গরুর দুধে জল মেশায় বিনু গোয়ালা। গরম ভাতের হাঁড়ি খুলতেই দেখি অতিথির বেশে অভাব। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার না হলেও কোলের খোকা অপুষ্টির শিকার। তবু টের অব্দি পেতে দিইনি তোমায়। চাঁদের বুড়ির গল্প শোনাতে শোনাতে ভাতের সাদা ফ্যান খাওয়াই ওকে। কিন্তু তোমার মুখের নাগালে সাজিয়েছি পিতলের জামবাটিতে রাখা মোটা সরওয়ালা দুধ। কনুই না ডুবলে তোমার ভুঁড়িভোজ পূর্ণ হয় না! এভাবেই একটু একটু করে আমি ফুরিয়ে যাই। দূরে শিরীষ পাতার ঝিরিঝিরি শব্দ হয়, নিজেকে ভীষণ হালকা লাগে। মনে মনে ভেসে চলি মাঝিমল্লারদের দূরপাল্লায়।
আষাঢ়ে প্রলাপ শোনাও যখন আমার দু’চোখ থেকে শ্রাবণীমেঘে বৃষ্টি ঝরে। ঝোরো হাওয়া মাথায় নিয়ে নিজেকে সুবর্ণলতা ভাবি। বুকের ভেতর জেগে থাকা এক চিলতে দুয়ারে আনমনে শিউলি ফুল ফোটাই, চাল-বাটা দিয়ে আলপনা আঁকি। আগামীর চেতনাকে মুঠিবদ্ধ করে স্বাধীনচেতা মনকে ডানা মেলে ওড়ার আস্কারা দিই। ফুটিফাটা চালের ওপারে যে নীল রঙের সাগর ভাসে, হাত বাড়াই। এভাবেই কোনোদিন, কোনো একদিন নীল পাড় আর আকাশি রঙ ছোঁ মেরে নিয়ে কলমকারি শাড়ি করে পরব! পুরুষসমাজের দিকে তাকিয়ে বলব— শিকল পরায় আমায়, কার সাধ্যি? গোটা আকাশকে আমি সোনার খাঁচা বানিয়েছি। আমি উড়ব আর খিলখিলিয়ে হাসবে খোকা। তুলসিতলা পাহারা দেবে ঘিয়ের প্রদীপ।
জানি বিনু গোয়ালা তখনও দুধে জল মেশাবে আর বলবে— “মেরে পাশ শুদ্ধ দুধ হে, বহত শুদ্ধ দুধ। কয়া, আপ থোড়া লেনা চাহোগি!”

ঠুংরি
দিব্যেন্দু সরকার
বৃষ্টি বিকেলে বাইরে বের হবার প্লানটায় জল ঢেলে দিলো। তাতে কি মনখারাপ হলো! সেই কথাটাই বসে বসে ভাবছি।
চুপ করে তাকিয়ে দেখছি জলভরা মেঘ ঝরছে। উঁচু উঁচু বাড়ী, গাছ ভিজছে। সামনে একটা আমগাছ দুটো দেওয়ালের ফাঁক দিয়ে কোনমতে জেগেছে। আর একটা কিবা গাছ খানিক উঠে জানলার কার্নিশে মাথা ঠেকে গেছে। একটু তো বৃষ্টি হলোই। শুধু ওটা দুলতে পারলো না, ভেজা হলো না ওর। আমাদের পল্লীগ্রামে সব গাছ, সব মাটি ঘাস ভেজে!!
কলকাতার বৃষ্টি তাকে পল্লী গ্রামের বৃষ্টির সাথে কি করে মেলাই!! সবাই বলবে বৃষ্টি তো বৃষ্টিই।
এখানে মাঠের ছাগল ছুটে এসে ঘরে ঢোকা নেই, অবুঝ বকনা বাছুরটাকে টানতে টানতে আনা কিশোরীর ছবি নেই, মাঠে শুকনো ধান মাথায় শাড়ী ঢেকে ধামা করে তুলে আনা নেই তবুও কলকাতায় ধিক ধিক করে জ্বলা অগণিত জানলায় বৃষ্টি ছুঁতে চাওয়া হাত আছে, বাড়ী ফেরার তাড়া ভুলে গিয়ে স্টপেজ গুলোর বিশ্রাগাড়ে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ছাট লাগানো সুখ আছে।
সেবার আমরা চার বন্ধু কলকাতায় এসেছিলাম। অনেকদিন আগে।তখন বিকেল গড়িয়েছে স্ট্রিট লাইট সবে জলেছে। সেটা কলেজস্ট্রিটের কাছাকাছি কোথাও । বাতাস বইয়ে দুম করে এক পশলা বৃষ্টি এলো। অনেকেই শেল্টার নিলো দোকানের কারসেডে , ওয়েটিংরুমে। কেউ কেউ হাত বাড়িয়ে ভিজলো ।আমাদের ভিজতে আপত্তি নেই।
হঠাৎ চোখ পড়লো এক দম্পতির উপর। স্বামী শেল্টারে যাবার জন্য টানাটানি করছে। মহিলাটি ততোই নিঃস্পৃহ ভাবে ভিজছে। দামী শাড়ীর আঁচল মাটিয়ে লুটিয়ে কলকাতার কালো জলে মাখামাখি !
কিছু ঘটনা মনে রাখবার কারণ নেই তবুও মনেই গেড়ে বসে!
আজ বৃষ্টি তেমন হলো কৈ। ওই একটু। হাওয়া দিয়ে, একটু ছিটিয়ে মিলিয়ে গেলো।
এই বারান্দা থেকে এদিকওদিক তাকিয়ে দেখছি। দৃষ্টিও যেন গলিপথ। দেওয়ালে দেওয়ালে ঠোকা লেগেই দৃষ্টি এগোয়।
কলকাতাকে দেখবো বলে ছাদে উঠে যাই। উপর থেকে নীচে তাকাই, আকাশে চেয়ে থাকি। নীচের সার দেওয়া বাড়ী গুলো সব একইরকমের। হঠাৎ একদিন খেয়াল করলাম আরে বাড়ীর সারির ভেতর বাড়ী ঢুকে আছে!! তবে বস্তির মতো করুণার নয়। এক চিলতে সরু জায়গার খানিকটা ছেড়ে একটা দোতলা বাড়ী। বড্ড নির্জন, মায়ামাখানো। খেলনার মতো ছোটো। দুদিকে উঁচু উঁচু বাড়ীর চাপে চোখেই পড়ে নি। এতদিন কাউকে দেখিও নি অনেক উঁকিঝুঁকি দিয়েও।
আজ চোখ চলে গেলো গলিতে। বাতাস উঠতে একচিলতে বারান্দায় দুটো চেয়ার বসলো। এক অশীতিপর দম্পতি চেয়ারে বসে!
আজ মনে হলো বৃষ্টি গানের মতোই। চুপচাপ সামনে বসিয়ে রাখে।
বৃষ্টি থেমে গেছে। সামনে জড়াজড়ি টেলিফোনের, বিদ্যুতের তার। ওগুলোর গায়ে চিকচিক চোখের জলের মতো। টোকা মারলেই টস করে ঝরে যাবে। আমি যেন এলাবাদের কোন কোঠাবাড়ীর ঠুংরি শুনছিলাম। এবার বাঈজীর চোখে চোখ রাখলাম।

‘জয় করে তবু ভয় কেন তোর যায় না’
সুদেষ্ণা মৈত্র
জয় আর ভয় বেশ ছন্দে ঘেরা দুটি শব্দ।কিন্তু অর্থের দিক দিয়ে বিপুল ফারাক। জয় শব্দের অর্থ হল সাফল্য।মানে অন্য কাউকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া। আর ভয় হল শঙ্কা। বা সহজ করে বলতে গেলে কোনো বিষয়ে মানুষ যখন শঙ্কিত হয়ে উঠে যে অবস্থায় পৌঁছায় তাই ভয়। তবে শঙ্কা আর আশঙ্কা কিন্তু এক অর্থ নয়।শঙ্কা নানা করণে ভয় ধরায়। আর আশঙ্কা চিন্তা থেকে অহেতুক ভয়ের জন্ম দেয়। তাই জয় করতে হলে ভয়কে জয় করতেই হবে। না হলে নিজের প্রতি দশের প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে না। মনে মধ্যে আশা, আলোর ভরসা আসবে না।
ভয় শব্দটিকে ছোটোবেলা থেকে শিশুরা জানে শোনে। সব থেকে শিশু মাকে বিশ্বাস করে ভালোবাসে আর ভয় পায়। পৃথিবীতে এমন কোনো শিশু নেই যে সে মায়ের উষ্ণ চোখ, গোলগোল রাগের চোখ, মুখ গম্ভীরের চোখকে ভয় পায় না। এছাড়াও কেউ ভূতের ভয়ে অন্ধকারে যায় না। মানে গা ছমছম এক অলৌকিক বিষয়ে ভয় পেয়ে যায়।কেউ বা বাজের শব্দে ভয় পায়। শিশু যখন নিতান্ত তিন চার বছরের থাকে আমরা বলে থকি ,’ ভয় পেয় না’কিন্তু তারা বড়ো হতে থাকলেই আমরা বড়োরা এই ভয় শব্দটিকে হাতিয়ার করে শিশু, কিশোরদের চারিদিকে একটা বলয় করে দি। আসলে বড়োরা তাদের আশঙ্কাকে ভয়ের নামে ওদের সামনে শিখণ্ডী করে দি। ছোটোদের না আছে ঢাল না আছে তলোয়ার নিধিরাম সর্দার হয়ে ঘুরে বেড়ায়। বড়োদের চাপিয়ে দেওয়া আশঙ্কা কে ত্রাস বা ভয় বলে মনে করে।তবুও তাদের যুক্তি বোধ ভয় থেকে একটু একটু দূরে সরিয়ে দেয় আর উপেক্ষার পথ বেছে নিতে থাকে তারা। তখন বড়োরা দুষ্টুমি করছ, খারাপ কাজকরবে না , এখানে যাবে না, এইটে করা ঠিক নয় এই সব বলে থাকি। ওদের বোধ দিয়ে ওরা যুক্তি খুঁজতে চেষ্টা করে।
বড়োরা থেমে থাকে না, আমাদের ছেলে বা মেয়েকে পৃথিবীর দরবারে শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিতে বেশি পচ্ছন্দ করি। তাই গানের স্কুল, নাচের স্কুল, আঁকার ক্লাসে ঠিক মতো কাজ না করলে বকাবকি করি।অনেক সময় বাড়ি থেকে চলে যেতে হবে বলি। বড়োরা ভুলে যায় ভুল না করলে শিখবে না। বড়োরা পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় বলি যে ভয় পাবে না। ঠিক লিখে আসবে। কিন্তু অঙ্কে খারাপ করলে খাওয়া বন্ধ,নানা শাস্তি,আর বাংলায় ইতিহাসে কম নম্বর মেনে নিতে পারি না।
আমরা বড়োরা কী চাই?শিশুরা মানুষ হোক তো! নির্ভীক ভাবে পথ হাঁটুক। নাকি মায়ের আঁচলের তলায় থাকুক।রবীন্দ্রনাথ তো বলে গেছেনযে সাত কোটি সন্তানকে দেশ জননী র বাঙালি করে রাখলেও মানুষ করতে পারেনি।
আমি মনোবিদ নয়, শিক্ষকতা আমার নেশা ও পেশা।তাই দীর্ঘ অভিজ্ঞাতায় জেনেছি এখনও কেউ রিডিং দিতে পারেনা, ভয় পায়।কেউ লিখতে পারেনা। এটি কী তাদের দোষ না বড়োদের?বড়োদের চাপে তারা এখনও স্বাধীন ভাবনায় কাজ করতে পারেনা বলে শিখছে নাএটি হল ভয়। যার বলয়ে আজকের শিশুরা গেছে আটকে।কেউ খুব ভালো রেজাল্ট করলেও তাকে যদি কেউ ডিঙিয়ে যায় সে মানতে পারে না। গুটিয় ফেলে নিজেকে। মুখে বলে ,’ বড্ড ভয় করে তাই পারছ না।‘এই ভয় বাড়ির ভয়, স্কুল, কলেজের ভয়, সমাজের ভয়।
একজন আছেন যিনি বেশ বেশি বয়সেই তার রান্না ঠিক হল কিনা , লোকজনকে আপ্যায়ন ঠিক হল কিনা ভয় পেয়ে থাকেন।তিনি কিন্তু তার পরিবারে তোলা তোলা হয়ে থাকতেন।আরেকজনকে জানি অসাধারণ পাণ্ডিত্য কিন্তু নিজের মতো করে কোনো লেখা প্রকাশ করতে পারেনি। মনে হয় পারবেও না।তার কারণ অল্প বয়স থেকে চোখে পাওয়ার ।এখানেও বাড়ির সবাই ঘিরে রেখেছিল তাদের অযাচিত ভয়ে।
কবিগুরু বলেছেন যে ভয় হতে অভয় পথে চলতে। সংকোচের বিহ্বলতা য় হল নিজেকে অপমান করা। নিজেই নিজের কাছে অপমানিত হলে ছোটোরা আত্মশক্তি হারাবে মনে হয়।আত্মশক্তি আজকের সমাজে বড়ো প্রয়োজন।
আসুন আমরা উচ্চারণ করি , ‘ বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা/ বিপদে যেন না যেন করি ভয়’।
Copyright © 2026 আক্ষরিক - All Rights Reserved.
Powered by GoDaddy
We use cookies to analyze website traffic and optimize your website experience. By accepting our use of cookies, your data will be aggregated with all other user data.