আক্ষরিক
প্রথম পাতা
কবিতা - ১
কবিতা - ২
গল্প
বড় গল্প
রম্য রচনা/ মুক্ত গদ্য
ধারাবাহিক -উপন্যাস / গদ্য
প্রবন্ধ
Privacy Policy
আক্ষরিক
প্রথম পাতা
কবিতা - ১
কবিতা - ২
গল্প
বড় গল্প
রম্য রচনা/ মুক্ত গদ্য
ধারাবাহিক -উপন্যাস / গদ্য
প্রবন্ধ
Privacy Policy
More
  • প্রথম পাতা
  • কবিতা - ১
  • কবিতা - ২
  • গল্প
  • বড় গল্প
  • রম্য রচনা/ মুক্ত গদ্য
  • ধারাবাহিক -উপন্যাস / গদ্য
  • প্রবন্ধ
  • Privacy Policy
  • প্রথম পাতা
  • কবিতা - ১
  • কবিতা - ২
  • গল্প
  • বড় গল্প
  • রম্য রচনা/ মুক্ত গদ্য
  • ধারাবাহিক -উপন্যাস / গদ্য
  • প্রবন্ধ
  • Privacy Policy

রম্য রচনা/মুক্ত গদ্য

ঈশিতা ভাদুড়ী

হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা

ঈশিতা ভাদুড়ী


আমরা যত্র তত্র এদেশ সেদেশ বেড়িয়ে বেড়াই, ভালই লাগে। লোকজন বলে, 'একা একা বেড়াও, কোনও অসুবিধে হয় না?' অসুবিধে আবার কী! দিব্যি ত বেড়াই! তবে স্বীকার না করে উপায় নেই, ক্রমশ স্মার্টনেসটা কমছে আমাদের। নানা রকম ওলট-পালট কাজ করে ফেলছি আমরা। যেমন বেজিং-এ গিয়ে প্রথম দিন সকালে ইয়ুথহস্টেল থেকে বেড়াতে বার হওয়ার সময় তাড়াহুড়োতে আমরা নিজেকে বেজিং-এ বেড়ানোর উপযুক্ত করে নিতে ভুলে গেলাম। অর্থাৎ কাছের বাস-স্টপটির নাম বা হস্টেলের ঠিকানাটি চৈনিক হরফে লিখিয়ে সঙ্গে নিতে ভুলে গেলাম।

সারাদিন মনের আনন্দে বেড়িয়ে বেড়িয়ে সন্ধে হয়ে গেল। এবার ডেরায় ফিরতে হবে, আমরা একটা বাসে উঠলাম, বাস-নম্বরটি হস্টেলের স্টপেজ থেকে বুদ্ধি করে দেখে নিয়েছিল সোমা। তখন তো আর জানি না শুধু নম্বর দেখে বাসে উঠে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না বেজিং-এ। সেখানে রাস্তাগুলো রিং রোড কন্সেপ্টে, একই রাস্তা দিয়ে আপ এবং ডাউনের বাস যায় না। অতএব সঠিক নম্বরের বাসে উঠেও আমরা গোল গোল হয়ে ঘুরতে থাকলাম। যদিও বাসে উঠেই কন্ডাক্টরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম। কিন্তু সেই চৈনিক মহিলা কী বুঝে কী বলল আমাদের সেটা অবশ্য বুঝিনি আমরা। শেষমেশ আমাদের বারংবার প্রশ্নে আমাদেরকে কোনও একটি বিরাট চৌমাথায় নামিয়ে দিয়ে বাস উধাও। 

সে রাস্তা কোন্‌ রাস্তা জানি না তখন আমরা, সেখান থেকে গন্তব্যস্থল কত দূরে তাও জানা নেই আমাদের। চোখ চেয়ে দেখি সিগারেট- কোল্ড ড্রিঙ্ক্‌সের একটি ছোট্ট দোকান আর বড় বড় দু-চারটে বাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই চারপাশে। সেই ছোট্ট দোকানের দোকানী কিছুই বলতে পারল না, রাস্তার লোকজন তো প্রশ্নটাই বুঝতে পারল না। চার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আমরাও কিংকর্তব্যবিমূঢ়। একে তাকে প্রশ্ন করে সদুত্তর না পেয়ে অত্যন্ত হতাশ সোমা আমাকে বলল ‘ব্যাপারটা কিন্তু খুবই সিরিয়স’। আমি কী বুঝছি না সেটা! আমিও তো বুঝছি। কিন্তু উপায় কী!

হঠাৎ সাইকেল নিয়ে এক তরুণ ও তরুণী হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে, মনে হলো এরা কোনও সাহায্য করতে পারবে। ছুটে ছুটে তাদের গিয়ে ধরলাম। তারা কিন্তু যথার্থই চেষ্টা করল অনেক, ইয়ুথ হস্টেলে কথাও বলল নিজেদের মোবাইল থেকে। কিন্তু জানি না কেন তবুও কোনো সুরাহা হল না। নিজেদের ভাষায় তারা কী কথা বলল জানি না, কিন্তু তাদের চোখে-মুখে খুব সংশয়। ক্রমশ ভিড় জমে গেল। রাত সাড়ে আটটা বেজে গেল, প্রকান্ড চওড়া রাস্তায় গুটি কয়েক মানুষ এবং তারা আমাদেরকে ঘিরেই, অথচ আমাদের উদ্ধার হওয়ার কোনোই লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। ক্রমশ ভিড় বাড়তে থাকছে। পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে তারা কোনও সুরাহা না করতে পারায় শেষমেশ তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে তাদের থেকে বিদায় নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় দেখলাম না। ধন্যবাদ দিয়ে রাস্তা পার হয়ে গেলাম, তারা হয়তো একটু অবাকই হল। কিন্তু পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে ‘ন যযৌ ন তস্থৌ’ অবস্থায় থেকে আমার হাঁফ ধরে গিয়েছিল। সোমা তো অনেকক্ষণ থেকেই বলছিল, এখানে দাঁড়িয়ে কিস্‌সু হবে না। আমিই নেহাৎ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম।

আস্তে আস্তে ভিড়ের মানুষ চলে গেল, পুরো জনমানবশূন্য, গা ছমছম করতে লাগলো। হঠাৎ দেখি খুব আধুনিক পোষাক পরে একটি স্মার্ট তরুণী হেঁটে আসছে। তার কাছে আমাদের বিপদের গল্প বলায় সে খুবই চিন্তিত হল, ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বলল, সে জায়গাটি জানে না বলে আমাদেরকে সাহায্য করতে পারছে না এবং সেজন্যে সে খুবই দুঃখিত, তবে আমরা চাইলে সে আমাদের একটা ট্যাক্সিতে চড়িয়ে দিতে পারে। আমরা খুবই আহ্লাদিত হলাম। এরকম চেষ্টা আগের মানুষজন যে করেনি তা নয়, আরেকবার দেখা যাক। 

এবারেও ব্যাপারটি অত সহজ হল না, ট্যাক্সি-ড্রাইভার এসে পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিন এমন সব প্রশ্ন করতে থাকলো যে আমরা আবার দিশেহারা হয়ে পড়লাম, ওই মেয়েটিও। শেষমেশ সম্বিত ফিরে পেলাম আমরা, বললাম যে কোনও একটি আন্ডারগ্রাউন্ড (ট্রেন) স্টেশনে আমাদেরকে নামিয়ে দিতে। ড্রাইভার রাজি হয়ে গেল, তার পক্ষে এটি অনেক সহজ কাজ, আমাদের পক্ষেও সুবিধে স্টেশনে গিয়ে বুঝে শুনে ট্রেন ধরে ইয়ুথ-হস্টেলে চলে যাওয়া। মেয়েটিও হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। কেন যে এই বুদ্ধিটি এতক্ষণ আসেনি!

হস্টেলে ফিরে নাক-কান মললাম। এরপর চিনে যতদিন ছিলাম চৈনিক হরফে লেখা ঠিকানা না নিয়ে এক পা-ও বার হইনি আমরা ঘর থেকে।

রাজেশ মাজি

মায়াজালের চক্রব্যূহ

রাজেশ মাজী


আমরা পুরুষেরা বোকা পাঁঠাই রয়ে গেলাম। হাজারবার মনোমালিন্যের পরেও বউমনিদের টানা টানা কাজল-কালো চোখের কালি, দোদুল্যমান সুন্দর জুলফি ও মুক্তাঝরানো হাসির মায়াজালে আটকা পড়ে যাই। তখন তাঁদের তির্যক মন্তব্য আর কণ্টকের ন্যায় হৃদয়কে বিদীর্ণ করে না, বরং গোলাপের পাপড়ির বর্ষণ মনে হয়। মনে হয় অভিশপ্ত জন্মকুণ্ডলীতে স্বয়ং শুক্রাচার্যের তুঙ্গস্থ আগমন ঘটেছে; সমস্ত পার্থিব বৈষয়িক সুখের ভাণ্ডার উন্মুক্ত হতে চলেছে। বউমনিরা লাজে রাঙা হয়ে ঠোঁটের কোণে বঙ্কিম হাসি দিয়ে বুঝিয়ে দেন লাটাইয়ের সুতো তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন, আপনি নৈব নৈব চ।

আপনি কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না? কেন না ওই যে গৌরচন্দ্রিকা দিয়েছি, আমরা পুরুষেরা বোকা পাঁঠা। গাছপাঁঠা বা রাজপাঁঠাও আমাদের তুলনায় স্বাদে-গন্ধে উৎকৃষ্ট।


একটু বিশদে ব্যাখ্যা করে এই বিষয়ে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করা যাক। বিবাহের কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ভালোই বুঝলাম বউমনি ভূগোলকের উত্তর মেরু হলে আমি দক্ষিণ মেরু। তিনি সমুদ্র হলে আমি পাহাড়। তিনি সামাজিক প্রজাপতি হলে আমি কুয়োর ব্যাঙ। কারণে অকারণে সমাজে চরে বেড়ানো অপেক্ষা নিজস্ব বাটিকায় শীত ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা আমি শ্রেয় বলে মনে করি। কিন্তু তিনি অকারণে না হলেও কারণে কোথাও ঝটিকাসফরে নিজ আনন্দ খুঁজে পান। আমি নিজে খুব একটা অন্তর্মুখী না হলেও বহির্মুখী তা জোর দিয়ে বলা যায় না। আমার স্ত্রীর মতে তো একেবারে নয়। তিনি আমার অপেক্ষা সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি দুর্গাপুজোর আগে আগত একটি ঘূর্ণিঝড়ের প্রতিরূপ কিংবা বাসন্তিপূজোর পর পড়ন্ত বিকেলে ধেয়ে আসা কালবৈশাখী। তাঁর মতে আমি বাড়িতে হালুম হুলুম ও বাড়ির বাহিরে মিয়াও। এতগুলি উদাহরণ প্রবাহ উন্মোচন করার পর বলার অপেক্ষা রাখেনা যে আমাদের সংসারের প্রশাসনিক,  সাংবিধানিক ও বিচারবিভাগীয় রসায়ন কেমন! একাধারে তিনি দক্ষ প্রশাসক, তিনি সংবিধান ও তাঁর দৈববাণী সংবিধানের ভাগ(parts), অনুচ্ছেদ ( articles), তফশিল (schedules)। এখানে একমাত্র amendment করার পূর্ণ ক্ষমতা তাঁর হাতে ন্যস্ত। আমি কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতির ন্যায় সহমত পোষণ করে বাধ্যতামূলক সিলমোহর দিতে ব্যস্ত। তিনি প্রশাসনিক প্রধান , আমি সাংবিধানিক প্রধান। কিন্তু  এই Quasi - federal পরিবার তন্ত্রে আমার ক্ষমতা সীমিত। আর বিচার বিভাগীয় পরিকাঠামো আরও সঙ্গীন। তিনিই উকিল , তিনিই বিচারপতি, তিনিই এপেক্স কোর্ট। আর আমি, হেঁ হেঁ, আমি বিচার বিভাগীয় তদন্তের পরিশেষে সর্ব দোষে অভিযুক্ত আসামী সর্বনেশে নন্দ ঘোষ।

 এবার উপস্থাপন করি অর্থবিলের প্রসঙ্গে। তিনি সংসদের নিম্নকক্ষ, তিনিই উত্থাপন করেন। আমি সংসদের উচ্চকক্ষ, আমার ক্ষমতা সীমিত।সংবিধান অনুযায়ী নিম্নকক্ষে উত্থাপিত অর্থবিল আমি কোনো ক্রমে সর্বাধিক চোদ্দ দিন আটকে রাখতে পারি। এরপর সেই বিলে রাষ্ট্রপতির ন্যায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য হই।

পররাষ্ট্র নীতিতেও তিনি মাননীয় এস. জয়শঙ্কর মহাশয়ের থেকে কিছু কম যান না। সেসব কথা না হয় উহ্য রাখলাম।এই পরিবার তন্ত্রে অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির অষ্টম বৎসর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। এই দুর্নিবার ঘূর্নিপাকের কবলে পড়েও সংসারের খেয়া তরী সঠিক দিশায় পরিচালিত করে চলেছি। স্ত্রী জাতি মাতৃসম। তাঁদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদন করে মনে হয় রাজ পাঁঠা বা গাছ পাঁঠা নয়, পূর্বে গৌরচন্দ্রিকায় বর্ণিত বোকা পাঁঠা সাজাতে ই আমার মতো সমগ্র পুরুষজাতির পরম আত্মতৃপ্তি ।



অনিন্দিতা সান্যাল

খুঁটিপুজো

অনিন্দিতা সান্যাল


রথের দিন খুঁটি পুজো হয় সবাই জানে। কিন্তু কেন হয়,তার বৃত্তান্ত সেটা একটু আধটু জানা। শ্রীবিষ্ণু হলেন পরম পুরুষ,আর তাঁর মানবী শক্তি হলেন যোগমায়া বা মা দুর্গা বা আদ্যাশক্তি। তাই শ্রীকৃষ্ণের জন্মের আগে যোগমায়া আসেন দেবকীর গর্ভে। দেবকীর অষ্টম গর্ভ যাতে সুরক্ষিত থাকে। সুভদ্রা সেই রক্ষাকবচ। রথের দিনই তাই খুঁটিপুজো হয়। অকালবোধনের ক্ষণগণনার সূচনা হয়। এইসব গল্প বুবানকে বলতে হয় আমাকে। যাতে উল্টোপাল্টা কাজ বা প্রশ্ন করে আমাকে জ্বালাতে না পারে। সব শোনে। মন দিয়ে শোনে। প্রত্যেক বছর । আর প্রতি বছরই ভুলে যায়। এই বছর রথে ওর বাবার ছুটি ছিল,ওর স্কুল খোলা ছিল। স্কুল ছুটির পর বাবার সাথে ফিরেছে। দুপুরে খেতে বসে বলছে,খুঁটি পুজো দেখলাম। বললাম কোথায়। বললো এই কেষ্টপুরে। বললাম দেখলি তো সত্যি রথের দিন খুঁটিপুজো হয়। বললো খুঁটিগুলোর নামও দিয়েছে। এটা আমার কাছে নতুন। কোন পুরাণে পাইনি। বললাম কি নাম দিয়েছে?বললো একটা মুরাদাবাদী বিরিয়ানি আর তার পাশেরটা হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি। আজ থেকেই দোকান দুটো খুললো। রথ তো আজ। দুর্গাপুজোয় ভালো সেল হবে। শুনে পুরাণ ভুলে গেলাম। বললাম, শোন তার আগে খেয়ে দেখা দরকার। পুরাণে খুঁটিপুজোর বিবরণে কোথাও বিরিয়ানি নিয়ে কিছু নিষেধ বারণ নেই। তাই আগামীকাল উল্টোরথের পুণ্যতিথিতে পরীক্ষা করে দেখা হবে বুবানের দেখা খুটিগুলোর ফলাফল কেমন।

পড়তে থাকুন

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী
কবিতার পাতা - ১কবিতার পাতা - ২গল্পধারাবাহিক উপন্যাসপ্রবন্ধবিবিধ
  • প্রথম পাতা
  • Privacy Policy
  • Terms and Conditions

আক্ষরিক

82748 38787

Copyright © 2026 আক্ষরিক - All Rights Reserved.

Powered by GoDaddy

This website uses cookies.

We use cookies to analyze website traffic and optimize your website experience. By accepting our use of cookies, your data will be aggregated with all other user data.

Accept