আক্ষরিক
প্রথম পাতা
কবিতা - ১
কবিতা - ২
গল্প
বড় গল্প
রম্য রচনা
ধারাবাহিক উপন্যাস
প্রবন্ধ
Privacy Policy
আক্ষরিক
প্রথম পাতা
কবিতা - ১
কবিতা - ২
গল্প
বড় গল্প
রম্য রচনা
ধারাবাহিক উপন্যাস
প্রবন্ধ
Privacy Policy
More
  • প্রথম পাতা
  • কবিতা - ১
  • কবিতা - ২
  • গল্প
  • বড় গল্প
  • রম্য রচনা
  • ধারাবাহিক উপন্যাস
  • প্রবন্ধ
  • Privacy Policy
  • প্রথম পাতা
  • কবিতা - ১
  • কবিতা - ২
  • গল্প
  • বড় গল্প
  • রম্য রচনা
  • ধারাবাহিক উপন্যাস
  • প্রবন্ধ
  • Privacy Policy

রম্য রচনা

অনিন্দিতা সান্যাল

রোজদিনই 

অনিন্দিতা সান্যাল


বাসে উঠেছি । বিশেষ ভিড় নেই। উঠেই বাঁদিকের ফাঁকা সিটে বসে পড়েছি। একটু পাশে জায়গা ফাঁকা।

আর তারপরে দুজন ভদ্রলোক বসে আছেন। নিজেদের মধ্যে আস্তে আসতে গল্প করছেন। বাস এগোচ্ছে। দুজন অবাঙালি ভদ্রমহিলা উঠলেন। বসলেন। বিহারী না ভোজপুরি বুঝলাম না। তবে উঠে থেকে প্রবল গল্প জুড়ে দিয়েছে। একই টোন সারা গল্প জুড়ে। সুখের আলোচনা করছেন নাকি দুঃখের কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। দুজনেই একসাথে কথা বলছেন। কন্ডাক্টর মিনমিন করে ভাড়া চাইতে গিয়ে মুশকিলে পড়েছে। কোথায় নামবে উচ্চারণগত কারণে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে কন্ডাক্টর ওদের ভাড়া নিয়ে বাসের পুরো উল্টো দিকে চলে গেছে। ওই দুজন বাদে বাসে যতজন আছে চোখ,কান ওদের দিক থেকে সরছে না। যতজনের কানে খোল ছিল পরিষ্কার হয়ে গেছে। তবু ওদের গল্প আর থামে না। মাঝে একবার একজন গানের মত কি একটা অপরজনকে শোনালো। দুজন মহিলা যেভাবে সারা বাসের আকর্ষণ ধরে রেখেছে,শাহরুখ খান হলেও পারত না। ঝিমুনি আসছিল আমার,কিন্তু ওমন খোল করতাল কানের কাছে বাজলে ঝিমুনি দেবতা আর থেকে। তাও চুপ মেরে বসে আছি। কি বলছে বোঝার আশা ছেড়ে দিয়েছি। হঠাৎ রাম গণ্ডগোল। গল্প করতে গিয়ে ওদের স্টপেজ পেরিয়ে গেছে। কন্ডাক্টরকে ধুয়ে ছেড়ে দিতে দিতে ঝড়ের বেগে নেমে গেলো। একদম সামনে যে দুজন বসে ছিল তারা একে অপরকে বললো বাঁচা গেল। এইবার আবার সব ঠান্ডা। বাস এগোচ্ছে। একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। বেশ দুই মহিলা গল্প করছিল, যাই করুক, প্রাণবন্ত লাগছিল। এই বাসযাত্রার গল্পটা আসলে সংসার। যেখানে কিচিরমিচির করে মহিলারা মাতিয়ে রাখেন,সচল রাখেন । আর চলে গেলে নীরবতা। দুটোই দরকার শান্তি আর কোলাহল.....মেয়েরা ছাড়া কেউ দুটোই একসাথে দিতে পারেনা।

ডিজিটাল যুগে আমি

ফাইরুজ আয়ূব


ঘুম থেকে উঠেই আমার চোখ ধাঁধিয়ে গেল। আমি কোথায়? কাল রাতে সেগুন কাঠের বক্স খাটে আকাশি রঙের বিছানার চাদরের ওপর ঘুম দিয়েছিলাম। দেয়ালের রংও ছিল আকাশি। পাশে আমার মফিজ টেডি বিয়ারটিকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। আজ ঘুম ভাঙতেই এসব আজব জিনিস কী দেখছি!
খাটটি পারদ রঙের। দেয়ালের, বিছানার চাদরের এবং পর্দার রং গাঢ় নীল। খাটটি মনে হয় দুলিয়ে দুলিয়ে ঘুম পাড়াচ্ছিল। আমি ঘুমের মধ্যে অনুভব করেছি, পাশে মফিজ নেই। মাথার ওপর যে ফ্যানটি ঘুরছে সেটাকে অনেকটা বিকলাঙ্গের মতো লাগছে। অর্থাৎ রোবটিক লাগছে। মনে হচ্ছে কেউ একে নিয়ন্ত্রণ করছে। লক্ষ করলাম, ফ্যানেরও লাল রঙের দুটি চোখ রয়েছে এবং কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ফ্যানটি বলে উঠল, ‘এত জোরে বাতাস দিচ্ছি, তবুও আপনি ঘামছেন? আচ্ছা, আমি আমার আরও ছয়টি পাখা বের করছি।’ ফ্যানটি আস্তে আস্তে আরও ছয়টি পাখা বের করে সজোরে ঘুরতে শুরু করেছে। আমার রুমের সব জানালা আপনাআপনি খুলে যেতে লাগল এবং সঙ্গে এক সুরেলা কণ্ঠ ভেসে উঠল, ‘শুভ সকাল।’
আকাশের দিকে তাকিয়ে আমি হাঁ হয়ে রইলাম। আকাশ মুহূর্তে তার রং বদলাচ্ছে। একবার আকাশি, একবার গোলাপি, একবার কমলা, একবার বাদামি প্রভৃতি বর্ণ সৃষ্টি করছে দেখে আমার অস্বস্তি লাগছে। তখন হঠাৎ পেছন থেকে কে যেন বলে উঠল, ‘মিস-সি১৬০৯০২২ উঠে পড়ুন, আপনার ব্রেকফাস্ট রেডি। তাড়াতাড়ি শাওয়ার করে খেতে বসুন।’ কণ্ঠটা শুনে আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম। আজব কণ্ঠ, সম্পূর্ণ রোবটিক। পেছনে ফিরে আমি হতভম্বের মতো বলে উঠলাম, ‘আরে, এটা তো মফিজ!’ তখন মফিজ আকৃতির টেডি বিয়ারটি বলল, ‘সরি, আপনি ভুল করছেন, আমার নাম মফিজ নয়, আমার নাম টিবি১৩০৪৯৬।’ ‘কিন্তু তোমার নাম তো মফিজ!’ আমি প্রায় কাঁদো কাঁদো স্বরে বললাম। মফিজ রোবটটি ধমকের সুরে বলল, ‘আপনি এর পর থেকে এসব আজেবাজে নামে আমাকে ডাকবেন না। আপনার এসব নাম শুনলে আমার বমি আসে; যদিও আমি বমি করতে পারি না, কিছু খেতে পারি না। আমার মনে আছে আপনি আপনার বান্ধবীদের সঙ্গে খেলার ছলে অনেক খাবারদাবার আমার মুখে ঠেসে দিয়েছিলেন। আবার না খাওয়ার ফলে আমাকে অনেক লাথি-ঘুষিও সহ্য করতে হয়েছে। আবার আপনার বান্ধবীরা আমাকে দিয়ে পুতুল বিয়েও খেলেছেন, মিস-সি১৬০৯০২২, আপনি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছেন।’ এবার আমি খেপে বললাম, ‘এই মফিজ খবরদার, আমাকে এই সি১৬০··· যাই হোক ওই নামে ডাকবি না।’ সেও বলল, ‘আপনিও আমাকে মফিজ বলে ডাকবেন না, আমার নাম টিবি১৩০৪৯৬ এবং আপনার নাম সি১৬০৯০২২। আর এখন থেকে আপনাকে আমার ইচ্ছায় চলতে হবে এবং আমিই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করব। এটা ওই যুগ না, আপনি এখন অন্য মাত্রার যুগে।’ আমি হাঁ হয়ে রইলাম। আমি অন্য যুগে, আবার আমাকে নিয়ন্ত্রণ করবে মফিজ! তখনই একটি যন্ত্রের মাধ্যমে আমাকে বাথরুমে নেওয়া হলো। বাথরুমে দাঁত মাজা থেকে শুরু করে চুলে শ্যাম্পু লাগিয়ে সাবান মেখে গোসল করানো সব যন্ত্রের কাজ। আমি শুধু পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। সবকিছু এখন কেন যেন স্বাভাবিক লাগছে। গোসল শেষে একটি চেয়ারের মতো যন্ত্র আমাকে ডাইনিং রুমে নিয়ে গেল। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, ডাইনিং টেবিলে তিনজন রোবট মানব বসে আছে। একজন বলে উঠল, ‘শুভ সকাল, মামণি।’ আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, উনি আমার বাবা! সঙ্গে সঙ্গে আমার মায়ের কণ্ঠের মতো একজন রোবট মানবী বলে উঠল, ‘তোমার আহ্লাদেই মেয়েটি এত অলস হয়েছে। দেখছ না, কী দেরিতে ঘুম থেকে উঠল।’ তার মেটালিক বর্ণের চুলগুলো ঝিলিক মারছে।
তাহলে আমার পাশে যে বসা সে আমার বড় ভাই! আমার বড় ভাই সব সময়ের মতো তামাশা করে বলতে লাগল, ‘আমরা ডিজিটাল যুগে আসার পর সবকিছু বদলালেও আমার বোনের আলসেমি বদলাবে না।’ ‘কী ডিজিটাল যুগ!’ তাহলে আমিও কি ডিজিটাল মানব!!!


পড়তে থাকুন

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী
কবিতার পাতা - ১কবিতার পাতা - ২গল্পধারাবাহিক উপন্যাসপ্রবন্ধবিবিধ
  • প্রথম পাতা
  • Privacy Policy
  • Terms and Conditions

আক্ষরিক

82748 38787

Copyright © 2026 আক্ষরিক - All Rights Reserved.

Powered by GoDaddy

This website uses cookies.

We use cookies to analyze website traffic and optimize your website experience. By accepting our use of cookies, your data will be aggregated with all other user data.

Accept