আক্ষরিক
প্রথম পাতা
কবিতা - ১
কবিতা - ২
গল্প
বড় গল্প
রম্য রচনা
ধারাবাহিক উপন্যাস
প্রবন্ধ
Privacy Policy
আক্ষরিক
প্রথম পাতা
কবিতা - ১
কবিতা - ২
গল্প
বড় গল্প
রম্য রচনা
ধারাবাহিক উপন্যাস
প্রবন্ধ
Privacy Policy
More
  • প্রথম পাতা
  • কবিতা - ১
  • কবিতা - ২
  • গল্প
  • বড় গল্প
  • রম্য রচনা
  • ধারাবাহিক উপন্যাস
  • প্রবন্ধ
  • Privacy Policy
  • প্রথম পাতা
  • কবিতা - ১
  • কবিতা - ২
  • গল্প
  • বড় গল্প
  • রম্য রচনা
  • ধারাবাহিক উপন্যাস
  • প্রবন্ধ
  • Privacy Policy

ধারাবাহিক উপন্যাস

ঔরস

ঔরস

বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় 


(১০)

 

‘নীলাদ্রি’ ‘নীলাকাশ’ ‘নিলয়’ ভাবতে ভাবতে শেষ অবধি আমাদের ছেলের নাম হল, নীলাব্জ। আমি আর একটু খোঁজার পক্ষপাতী ছিলাম কিন্তু ঝুমার এই নামটাই পছন্দ হয়ে যাওয়ায়, রাজি হয়ে গেলাম। অন্যরকম বাবা হওয়ার যে প্রতিশ্রুতি নিজেই নিজেকে দিয়েছিলাম, নাম রাখার ব্যাপারে ঝুমার মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া সেটারই প্রথম ধাপ । ডাকনাম অনেকগুলো উঠে এসেছিল, তার মধ্যে মুখে মুখে সবচেয়ে বেশি ঘুরতে লাগল, কুটুস। 

পরিবর্তন যেটা হল সেটা এই যে ছেলেকে নিয়ে ঘরে ফেরার পর থেকেই ছেলে ছাড়া জগৎসংসার সম্পর্কে উদাসীন হয়ে গেল ঝুমা। কুটুসের জন্মের পর প্রায় দু’মাস আমাদের সঙ্গেই ছিলেন সুধাদি। উনি থাকায় বিরাট সুবিধা হয়েছিল আমাদের কিন্তু ওঁরও তো নিজের ঘরবাড়ি আছে। তবু আমার অনুরোধে আরও কিছুদিন উনি থেকে যেতেন কিন্তু সব হারানোর অভিজ্ঞতায় সুধাদি বুঝতে পেরেছিলেন যে ছেলের উপর প্রবল অধিকারবোধ থেকে ঝুমা খুব শিগগির ওঁকেও ভুল বুঝবে। যখনই কুটুসের ব্যাপারে ঝুমার কোনও একটা সিদ্ধান্তকে মানতে পারবেন না উনি তখনই ঝুমার মনে হবে যে নিজের বাচ্চারা মারা গেছে বলে ঝুমাদি জ্যান্ত বাচ্চার মায়ের প্রতি ঈর্ষাকাতর।

-বাচ্চা তো আরও অনেকেরই হয়। কিন্তু সবাই তো ঝুমার মতো রাগী হয়ে যায় না। কুটুস জন্মানোর পর থেকেই ঝুমার ভিতরে এত রাগ এল কোত্থেকে? একটা ছুটির দিনে আমি সুধাদিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।

ঝুমা ধারেকাছে নেই, নিশ্চিত হয়ে সুধাদি জবাব দিলেন, যখন কাউকে ভীষণ  ভালবাসতে শুরু করি আমরা, সেই সময় তার প্রতি সমস্ত অ্যাটেনশনটা গিয়ে পড়ে। আর তখন তার সঙ্গে সম্পর্কের নিবিড়তার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন কিছুর উৎপত্তি হলেই সেটার উপর প্রচন্ড রাগ জন্মায়। অতএব রাগ  যে সবসময় খারাপ কিছু তা নয়। ভালবাসা থেকেও রাগ হয়। আমি আমার দেশটাকে ভালবাসি, এবার সেই দেশটাকে কেউ ধ্বংস করতে চাইছে আমার তখন রাগ হবে না?  সত্যিকারের প্রেমিক বা প্রেমিকা অধিকাংশ সময় মিষ্টি নয়, একটু বদরাগীও বটে। ভালবাসার অভিঘাতটাই  রাগ হয়ে ফুটে বেরোয়। 

-কিন্তু আমরা তো আর কুটুসকে ধ্বংস বা নষ্ট করতে চাইছি না কেউ। আমি হতাশ গলায় বললাম।

সুধাদি উত্তরে কিছু একটা বলতেন হয়তো। কিন্তু ঝুমা ততক্ষণে স্নান সেরে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসেছে।

... 

সুধাদি, ঝুমার প্রতি অসম্ভব স্নেহে চুপ করে গেলেও, সবাই তো আর অত সংবেদনশীল হবে না। টুকুসের অন্নপ্রাশনের আগে ওকে আর ঝুমাকে নিয়ে যে অফিস পার্টিটায় গিয়েছিলাম, সেখানেই কাজিয়া বাধল তাই। 

আমার কলিগ কৌশিকের বউ প্রেরণা একরকম অপমানই করল ঝুমাকে, এরকম প্যানিক করছ কেন? আমারও তো বাচ্চারা ছোট ছিল। আর আমার নির্দিষ্ট সময় করা ছিল তখন যে দিনে ওই তিনবারই তারা খাবে। যখনই বাচ্চা চিৎকার করল তখনই ছুটে গেলাম, লোকজনের মধ্যে ব্লাউজ খুলে দুধ খাওয়াতে, দেখলেই অসহ্য  লাগে আমার। আমি তো আমার বাচ্চাদের একবছর হয়ে গেলেই আলাদা শোওয়ার ব্যবস্থা করেছি।  

- বাচ্চা কি কলের পুতুল যে তার খাওয়াটা কোথাও কোনও সুপার কম্পিউটারের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে? ঝুমা আগুন চোখে তাকাল প্রেরণার দিকে।  

-আরে বাবা, বাচ্চার মা নিজেই তো একটা সুপার কম্পিউটার। সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না? আমার বাচ্চারাও কেঁদেছে কিন্তু কাঁদতে কাঁদতে সাতদিন পরে বুঝে গেছে যে কেঁদেকেটে কোনও লাভ হবে না।যখন পাবার তখনই পাবে। এটা আসলে নির্ভর করে মায়ের উপর। মা’কে প্রথম থেকেই শিক্ষাটা দিতে হয়। বাচ্চা যদি বুঝে যায় যে সে কাঁদলে পরেই তাকে কোলে নিয়ে আদর করা হবে, তাহলে মুশকিল। 

-মুশকিল হলে আমার মুশকিল। তুমি দুশ্চিন্তা করছ কেন? আমার বাচ্চাকে আমি এভাবেই মানুষ করব। আমার, ইন ফ্যাক্ট, এত যৌন খিদে নেই যে বাচ্চা জন্মানোর ছ’মাসের মধ্যে তাকে আলাদা বিছানায় শুইয়ে রেখে কপোত আর কপোতী মিলে একসঙ্গে শুতে হবে। ঝুমা বার্স্ট করল। 

কথাটা যেন আগুন ধরিয়ে দিল ঘরটায়। 

প্রেরণা চিৎকার করে উঠল , যৌন খিদে মানে? তোমার এতবড় স্পর্ধা যে আমাকে অপমান করছ তুমি? তোমার বাচ্চাটা কীভাবে তোমার পেটে এসেছে শুনি? চয়নের সাথে কিছু করতে হয়নি তোমায়? নাকি, বাচ্চা দেবার অন্য লোক ছিল? 

প্রেরণার সাথে অফিসেরই এক বসের পরকীয়া নিয়ে বাজার সরগরম ছিল কিছুদিন। সেই গল্প ঝুমাকেও করেছিলাম তখন। ভেবেছিলাম ভুলে গেছে কিন্তু প্রেরণার বাজে কথার উত্তর দিতে ঝুমা সেই প্রসঙ্গ তুলল।

কৌশিক মদ খেয়ে পুরো আউট বলে, ঝগড়ার ভিতরেই ঢুকতে পারেনি; আমি ঝগড়াটা থামাব বলে ঝুমার হাত ধরে টেনে ওকে ওই ঘরটার বাইরে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। প্রেরণা তখনই আবার বোমা ফাটাল। 

-ওই বছর বছর বাচ্চা দেবে আর বাচ্চাকে দুধ খাইয়ে ঝোলা বুক নিয়ে ঘুরবে-ফিরবে। এই হচ্ছে গিয়ে এদের জীবনের অ্যাম্বিশন। 

মরবি তো মর কথাটা সেই ঝুমার কানেই গেল। ঝুমা আবারও চিৎকার করে উঠল, বাচ্চাকে দুধ খাইয়ে বুক ঝুলে গেলে আমার কোনও প্রবলেম নেই। আমার বুক তো হেরিটেজ সাইট নয় যে অনেকে টিকিট কেটে দেখতে আসবে। 

ব্যাপারটা আরও নোংরামির দিকে যাওয়ার আগেই আমি একরকম জোর করেই  ঝুমা আর কুটুসকে নিয়ে বেরিয়ে এলাম। 

রাস্তায় বেরিয়ে ঝুমা কাঁদতে শুরু করল। কাঁদতে কাঁদতে কুটুসের মুখটা বুকের মধ্যে চেপে ধরে জিজ্ঞেস করল, বাচ্চা যখন চাইবে তখনই তাকে খাওয়ানো একজন মায়ের অপরাধ? বুক যাতে না ঝুলে যায় সেটা দেখাই কি একটা মেয়ের প্রাথমিক কর্তব্য? ওরা ওগুলো কী বলছিল? 

-বাদ দাও না, অত ধরতে নেই। আমি ভাড়া করা গাড়িটার দিকে এগোতে এগোতে বললাম। 

-আমি তো ধরতে চাইনি। আমি তো আমার ছেলেকে নিয়ে দারুণ আছি। তুমি কেন এখানে, এদের মধ্যে নিয়ে এলে আমাকে?  

আমি ঝুমার অভিযোগের মুখে চুপ করে গেলাম। জলপ্রপাতের উচ্ছ্বাস যুক্তি দিয়ে থামানো যায় না। ঝুমার ভিতরে আবেগের যে সুনামি, তার সামনে দাঁড়াবে এমন সাধ্য কার? 

ঝুমার কাছে কুটুস যেন এভারেস্টের চূড়া। কিংবা মধ্যরাতের সূর্য। বাকি পৃথিবীর কাছে তো নয়।  যে পৃথিবীতে রাস্তায়, ফুটপাথে , ব্রিজের নিচে, বস্তিতে, শরণার্থী শিবিরে প্রতিদিন অসংখ্য বাচ্চা জন্মাচ্ছে, বেড়ে উঠছে, ভ্যাকসিন পাচ্ছে বা পাচ্ছে না, বেবি ফুড খাচ্ছে কিংবা মাটিতে বসে নিজের বিষ্ঠা নিজেই খুঁটছে সেই পৃথিবীতে একটা নতুন বাচ্চার জন্ম নিয়ে কেউ ভাবিত নয়। কুটুস আমাদের কোহিনুর হতে পারে কিন্তু অন্যের কাছে সে কী? তারা ওকে নিয়ে ব্যস্ত হবে কেন? 

কিন্তু ঝুমা তো আমার কাছে স্ট্যাটিস্টিক্সের ক্লাস করতে চাইছিল না, মা হওয়ার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাইছিল। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে বসে থেকে বুঝছিলাম, কীভাবে মাতৃত্ব পালটে দেয় একটা মেয়েকে। হয়তো সেটাই স্বাভাবিক। বাথরুমে, বিছানায়, প্যান্টে, পাজামায় যা ঝরে পড়ে, নষ্ট হয়, তাকেই ভিতরে নিয়ে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্ত-মাংস দিয়ে লালন করে একটা মেয়ে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। 

জন্মের পরও সেই ছোট্ট পুতুলটা মায়ের থেকেই শুষে নেয় নিজের জীবনধারা। সমস্ত মৃত্যুর মধ্যেও সেই ধারা কখনও শুকোয় না। পারমাণবিক বিস্ফোরণের পরও তৃষ্ণার সেই বন্ধন ছেঁড়ে না যা বাচ্চাকে নিয়ে যায়, মায়ের বুকে।

-প্রেরণা কী বলল না বলল, তাই নিয়ে সত্যিই এত ভাবার দরকার আছে কী? ও কে যে এত পাত্তা দিচ্ছ? 

-ওকে পাত্তা দিচ্ছি না। ভাবছি পৃথিবীটা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে যে পাঁচ মাসের ছেলের জন্যেও জবাবদিহি করতে হবে! 

ঝুমার কথার ভিতরেই কুটুস কেঁদে উঠল। ঝুমা অসম্ভব ক্ষিপ্রতায় কুটুসকে তুলে নিয়ে নিজের বুকে আঁকড়ে ধরল যেভাবে রাতের আকাশ আঁকড়ে ধরে তারাকে।  মা আর সন্তানের সেই দৃশ্যের সামনে বসে আমার শুভাঞ্জনার কথা মনে পড়ল। মনে হল, শুভাঞ্জনাকে এই ছবিটা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করি, পৃথিবী কিংবা মহাপৃথিবীতে এর চাইতে বড় শিল্প হয়?    


(ক্রমশ...)

পড়তে থাকুন

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী
কবিতার পাতা - ১কবিতার পাতা - ২গল্পরম্য রচনা প্রবন্ধবিবিধ
  • প্রথম পাতা
  • Privacy Policy
  • Terms and Conditions

আক্ষরিক

82748 38787

Copyright © 2026 আক্ষরিক - All Rights Reserved.

Powered by GoDaddy

This website uses cookies.

We use cookies to analyze website traffic and optimize your website experience. By accepting our use of cookies, your data will be aggregated with all other user data.

Accept